আর কোথায় কোথায় বাঁশ দেওয়া যাবে?

53
SHARE

সোহেল হাবিব : বাংলা প্রবাদ বাক্যগুলো আজকাল প্রায় হারিয়েই যাচ্ছে। কিন্তু তারপর গুটিকয়েক টিকে আছে সমহিমায়। তার মধ্যে যে ক’টি প্রবাদ বাক্য এখন টিকে আছে তার মধ্যে ‘বাঁশ দেওয়া’ সম্ভবত অন্যতম। প্রবাদ বাক্যে ‘বাঁশ দেওয়া’র অর্থ আমরা সবাই জানি। তবে ইদানীং নানা জায়গায় রডের বদলে ‘বাঁশ দেওয়া’র ঘটনা প্রায়ই ঘটছে। ফলে প্রবাদটি নতুন বাজার পেয়েছে বলেই মনে হচ্ছে।

খবরে বলা হয়েছে, রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের নতুন চারতলা একটি ভবনের লিফটের পাশ থেকে দুটি বাঁশের বাতা বেরিয়ে এসেছে। বাতার ওপর থেকে টাইলস উঠে গেলে সোমবার বিষয়টি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের নজরে আসে। এনিয়ে গণমাধ্যমে খবর বের হওয়ার পর গণপূর্ত অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা ভবনটি পরিদর্শন করেছেন।

ভবন পরিদর্শনের সময় গণপূর্ত অধিদফতরের নির্বাহী প্রকৌশলী লতিফুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, ‘এটি কোনো সমস্যা নয়। মূল ভবনের মেঝে বরাবর লিফটের সংযোগ স্থাপনে সামান্য ফাঁকা রাখা হয়, এটি নিয়ম। এই ফাঁকা জায়গাটি ঢালাই করে দেয়া হলে লিফটের রক্ষণাবেক্ষণে সমস্যা হয়। এর সঙ্গে মূল ভবনের কোনো সম্পর্কই নেই। এই স্থানটিতে প্লাস্টার করে টাইলস বসানোর জন্য বাঁশের বাতা ব্যবহার করা হয়েছে। এনিয়ে এত হৈচৈয়েরও কিছু নেই।’

আমরাও মনে করি, তিনি অতি উত্তম কথা বলেছেন!তাছাড়া, বাঁশ থাকতে রড দেওয়ার আবদার কেনরে বাবা! দেশে কি বাঁশের আকাল পড়েছে নাকি?

শোনেন নাই? এর আগে গাইবান্ধার স্কুলের টয়লেট নির্মাণে ঠিকাদার রডের বদলে বাঁশ দিয়েছে। চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার দর্শনায় প্রায় আড়াই কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন কৃষি অধিদফতরের নতুন ভবনে শো পিলার ঢালাইয়ে রডের পরিবর্তে ব্যবহৃত হয়েছে বাঁশ। মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় রডের পরিবর্তে বাঁশ দিয়ে পাকা ড্রেন নির্মাণকাজ সম্পন্ন করা হয়েছে।

তাতে কি কোনো ক্ষতি হয়েছে? না, কিছুই হয়নি। কয়েক দিন খবরের লোকেরা খালি খালি হইচই করেছে। তারপর তো সবাই চুপ।

আরে বাবা, যারা রডের বদলে বাঁশ দিচ্ছেন তারা বরং রড কেনার টাকা বাঁচিয়ে দেশের উপকারই করছেন। তাছাড়া, বাঁশের গুণ কি কোনো অংশে কম? মোটেই না। বাঁশ ওজনে রডের চেয়ে হালকা, দামেও সস্তা। পাওয়া যায় হাতের নাগালেই। সুতরাং এত গুণ থাকতে বাঁশের বদলে রড ব্যবহার করার কুবুদ্ধি আসে কোথা থেকে?

চলুন এখন থেকে আমরাও রডের বদলে বাঁশ দেওয়ার উদ্যোগ নিই। তবে কোথায় কোথায় বাঁশ দিতে হবে সেটা বুঝতে না পারলে গণপূর্ত অধিদফতরের ওই নির্বাহী প্রকৌশলী সাহেব তো আছেন, তাই না?

আপনার মন্তব্য