এসে গেছে নকল চোখে দুনিয়া দেখার যুগ

56
SHARE

ইউসুফ হায়দার : চিকিৎসা বি্জ্ঞানের উন্নতির ফলে নানা চমকপ্রদ ঘটনা ঘটছে দুনিয়ায়।কিছুদিন পরপর বিশ্বে নতুন নতুন রোগের যেমন আবির্ভাব হচ্ছে, তেমনি আবিষ্কার হচ্ছে নতুন নতুন চিকিৎসা পদ্ধতিও। চিকিৎসা বিজ্ঞানের নতুন আবিষ্কারগুলোর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে মানবদেহে কৃত্রিম অঙ্গপ্রতঙ্গপ্রতিস্থাপন।

চিকিৎসা বিজ্ঞানে একটি পরিচিত শব্দ “Prosthesis” এটি প্রাচীন গ্রিক শব্দ “Prósthesis” থেকে নেয়া, যার অর্থ দাঁড়ায়যোগ হওয়া, যুক্ত হওয়া কিংবা বিবর্ধন করা।এটি এক বায়োমেকানিক্যাল প্রক্রিয়া, যে প্রক্রিয়ায় শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ যেমন, হাত, পাএকটি কৃত্রিম অঙ্গের মাধমে প্রতিস্থাপন করা হয়। ধারণা করা হয়, এই প্রক্রিয়াটি প্রথম কাজে রূপ দেন মিশরীয়রা। কেননা, মিশরের কোনো কোনো পিরামিডে রক্ষিত  মমি ও যুদ্ধ ধ্বংসাবশেষে মানুষের হাড়ের সাথে কাঠের হাত, পা, আঙুলখুঁজেপাওয়াগেছে।

আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানীরা প্রযুক্তিতে যেহেতু অনেক এগিয়ে তাই তারা যা আবিষ্কার করছেন তার কাঠের কিংবা ধাতব নয়। একেবারে দেখতে মানব অঙ্গের মতো এবং কাজেও যাতে কৃত্রিম মনে না হয় তেমন অঙ্গপ্রতঙ্গই বানাচ্ছেন। এতদিন তারা কৃত্রিম হাতপা এমনকি ফুসফুস তৈরি করে সাফল্য অর্জন করেছিলেন। এবার জানা গেল, বিজ্ঞানীরা কৃত্রিম (নকল) চোখ আবিষ্কারের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে গেছেন।

এতদিন ধরে একটি প্রশ্ন বিজ্ঞানীদের মনে ঘুরপাক খাচ্ছিল যে, মানবদেহের জটিল জটিল অন্ধজনের চোখে আদৌ কি আলো ফেরানো সম্ভব? কিন্তু সম্প্রতি বায়োনিক চোখের সফল প্রতিস্থাপনের পর এ বিষয়ে যথেষ্ট আত্মবিশ্বাসী গবেষকরা। সাত বছর আগে সম্পূর্ণ দৃষ্টিশক্তি হারিয়ে ফেলা এক নারীর দেহে বায়োনিক চোখ প্রতিস্থাপনের পর বস্তুর আকার বুঝতে পারছেন। দেখতে পাচ্ছেন রংও। আর তাতেই আশান্বিত হয়ে উঠছে গবেষক দলটি।

গবেষক দলটি ধারণা করছেন, তাদের এ সাফল্যের সূত্র ধরেই আগামীতে দৃষ্টিশক্তিহীন মানুষদের নকল চোখে দুনিয়া দেখার সুযোগ মিলতে পারে।

জানা গেছে, লস অ্যাঞ্জেলেসের ইউনিভার্সিটি ক্য়ালিফোর্নিয়ার ওই গবেষকরা ৩০ বছর বয়সের এক দৃষ্টিহীন নারীর মস্তিষ্কে অস্ত্রোপচার করে ওয়ারলেস ভিস্যুয়াল স্টিমুলেটর চিপ বসিয়ে দেন। যার দৌলতে ওই নারী এখন রংরেখা, দাগ, সিগন্যাল সবকিছু দেখতে পাচ্ছেন। একটি কম্পিউটার থেকে সেইসব সিগন্যাল ও রেখা মস্তিষ্কে বসানো চিপে পাঠানো হচ্ছিল। মানুষের মস্তিষ্কে তাঁকে দিয়েই প্রথম পরীক্ষা করে দেখা হল।

বিজ্ঞানীদের আবিষ্কৃত এই প্রযুক্তিতে সরাসরি সিগন্যাল পাঠিয়ে মস্তিষ্কের ভিস্যুয়াল কর্টেক্সকে উদ্দীপিত করা হচ্ছে। ডিভাইসটির নির্মাতারা জানিয়েছেন, গ্লুককোমা, ডায়াবেটিক রেটিনোপ্যাথি, ক্যানসার বা ট্রমা থেকে যাঁরা সম্পূর্ণ দৃষ্টিশক্তি হারিয়ে ফেলেছেন, তাঁদের কথা ভেবেই এটি তৈরি হয়েছে।

চিকিৎসাবিজ্ঞানীদেরএইনতুনআবিষ্কারটিরসামগ্রিকভাবেচিকিৎসাক্ষেত্রেব্যবহারেরজন্যআগামী২০১৭সালেরমধ্যেঅনুমোদনমিলবেবলেমনেকরাহচ্ছে।আরএরফলেনকলচোখেদুনিয়াদেখারযুগেরযেশুরুহয়েযাবেতাতেসন্দেহনেই।

আপনার মন্তব্য