আইএস ধ্বংসে রাশিয়ার সিদ্ধান্ত মেনে নিচ্ছেন ট্রাম্প!

45
SHARE

ইউসুফ হায়দার

যুক্তরাষ্ট্রের নব নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট একজন আনপ্রেডিক্টেবল পার্সন হিসেবে নিজের পরিচিতি ইতোমধ্যে বেশ ভালোভাবেই তৈরি করেছেন। তাই তিনি কখন কী করবেন, তার কিছুই বোঝা যাচ্ছে না। একদিকে তিনি তার ভবিষ্যৎ প্রশাসনের জন্য বেছে বেছে মুসলিম বিদ্বেষী এবং যুদ্ধবাজদের সিলেক্ট করছেন, অন্যদিকে তার সবচেয়ে কট্টর সমালোচকদেরও স্থান দিতে যাচ্ছেন মন্ত্রীসভায়।

এসব নিয়ে জল্পনা-কল্পনার মধ্যেই নতুন খবর জানা গেছে। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন নির্বাচনে ডোনাল্ড ট্রাম্পের জয়ের আগে সিরিয়ার আসাদপন্থী রাজনীতিক রানদা কাসিস-এর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন ট্রাম্পপুত্র ডোনাল্ড ট্রাম্প জুনিয়র। চলতি বছরের ১১ অক্টোবর প্যারিসে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। রানদা কাসিস নামের ওই নারী সিরিয়ায় রুশ হস্তক্ষেপের কট্টর সমর্থক।

Latest Video Release

বাংলাদেশের টাইগারদের উৎসর্গ করে বাংলাদেশীজম প্রজেক্ট তৈরী করেছে একটি বিশেষ ভিডিও। নীচে ভিডিওটি দিয়ে দিলাম। দেখে ফেলুন।

মনে করা হচ্ছে, এ বৈঠকে ক্ষমতায় এলে সিরিয়ার চলমান সংঘাতে ট্রাম্প প্রশাসনের সম্ভাব্য ভূমিকা নিয়ে তাদের মধ্যে আলোচনা হয়েছে। আর সিরিয়া ইস্যুতে আসাদপন্থী তথা রুশপন্থী একজন রাজনীতিকের সঙ্গে এমন আলোচনা ট্রাম্প সরকারের সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় কোনও প্রভাব ফেললে স্বভাবতই আসাদ ও রাশিয়ার জন্য তা হবে স্বস্তিদায়ক।

ধারণা করা হচ্ছে, সিরিয়া ইস্যুতে রাশিয়ার পথেই হাঁটতে পারে যুক্তরাষ্ট্র। অন্তত দুই দেশের মধ্যে এক ধরনের সমঝোতা হতে পারে। এর পেছনে শুধু ট্রাম্পের নির্বাচনি প্রচারণায় রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের প্রশংসাই একমাত্র কারণ নয়। নতুন করে আলোচনায় আসছে ১১ অক্টোবরের এ বৈঠক। কারণ রানদা কাসিস যে দলটির নেতৃত্ব দেন সেটিকে সিরিয়ার ‘দেশপ্রেমিক বিরোধীদল’ হিসেবে আখ্যায়িত করে রাশিয়া। নানা বিষয়ে ভিন্নমত থাকলেও ‘দেশপ্রেমিক বিরোধীদলের’ এই নেত্রীকে আসাদপন্থী রাজনীতিক হিসেবেই বিবেচনা করা হয়। কারণ, সিরিয়ার রাজনৈতিক পরিবর্তনের ইস্যুতে তিনি আসাদের পাশেই ছিলেন।

আসলে সিরিয়াতে যা কিছু হচ্ছে তার জন্য ওবামা প্রশাসনের দায় রয়েছে- এতে কোনো সন্দেহ নেই। আর সিরিয়ায় আজকের ভয়াবহ যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণ যে আইএস বা আইসিস, তার পেছনে নাকি কলকাঠি নেড়েছে ইহুদী রাষ্ট্র ইসরাইল এবং তার মিত্র যুক্তরাষ্ট্র। আর যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন আইএস গঠনে নেতৃত্ব দিয়েছেন সামনে থেকে।

প্রকাশ্যে অবশ্য যুক্তরাষ্ট্র সব সময়ই ছিল আইএস বিরোধী। তারা বরং আইএস ধ্বংসের উদ্দেশ্যে বিমান হামলা চালিয়ে বিপুল গোলাবারুদ খরচ করেছে। কিন্তু তাতে আইএস ধ্বংস হওয়ার কোনো আলামত যখন পাওয়া যাচ্ছিল না, তখনই রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট পুতিন মাঠে নামেন। ফলে সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আসাদ বিরোধীরা যেমন পিছু হটতে শুরু করে, তেমনি লেজগুটাতে থাকে আইএস নামের বীর পুরুষরাও। তাতেই শুরু হয়ে যায় যুক্তরাষ্ট্রসহ তার মিত্রদের মায়া কান্না।

কিন্তু এখন মনে হচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্রের ৪৫তম প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ক্ষমতায় আসার পর পরিস্থিতি পাল্টাতে পারে। কিন্তু এর পরও একটি প্রশ্ন থেকেই যাবে, ইহুদী লবীকে এড়িয়ে ট্রাম্প কি পারবেন আইএস ধ্বংসে শেষ পর্যন্ত রাশিয়ার সিদ্ধান্তের ওপর অটল থাকতে?

আপনার মন্তব্য