প্রতিবন্ধীদের জীবনে গতি এনেছেন মিস্ত্রি মিজান

46
SHARE

একজন মিস্ত্রি বা মেকানিকের কাছ থেকে যন্ত্রসারাই করা বা আসবাপত্র বানানো ছাড়া আপনি আর কিই-বা আশা করতে পারেন? নাকি তাদের কাছ থেকে আর কিছু চাওয়ার আছে? না, আসলে তাদের কাছ থেকে এর চেয়ে বেশি কিছু আশা করার নেই। কিন্তু তারপও একেক একজন সাধারণ মিস্ত্রি কিংবা একজন সাধারণ মেকানিক তার সাধনা দিয়ে নতুন নতুন জিনিস বানিয়ে হয়ে উঠতে পারেন অসাধারণ।

এমনই একজন সাইকেল মেকানিক ঢাকার রাজধানীর মোহাম্মদপুরে বসে পাট দিয়ে বানিয়ে ফেলেছেন সাইকেলের ফ্রেম! ভাবা যায়? কিংবা বগুড়ার আমীর হোসেনের কথাই দরুণ, যিনি আসলে একজন সাধারণ গাড়ি মেকানিক। তার একটি ওয়ার্কশপ আছে। গাড়ির সমস্যা হলে ঠিকঠাক করাই তার কাজ। সেই তিনি কিনা এখন অনেকের কাছে অনুকরণীয়!

ইলেট্রিক ইঞ্জিনিয়ারিং নিয়ে কোনো পড়াশোনা না থাকার পরও তিনি নানা ডিজাইন এবং প্রকৃতির গাড়ি ও গাড়ির ইঞ্জিন বানিয়ে আলোড়ন তুলেছেন। শুধু তাই নয়, তার বানানো ইঞ্জিন এখন রপ্তানিও হচ্ছে। সত্যিই ভাবতে অবাক লাগে!

আসলে অবাক করার মতো খবর হলেও এগুলো সত্যি। আর এবার এমনই আরেক মিস্ত্রির খবর পাওয়া গেছে যশোহরে। মিজান মিস্ত্রি নামের এই ব্যক্তিটি ইতোমধ্যে প্রতিবন্ধীদের জন্য এক ছোট গাড়ি তৈরি করে চমক সৃষ্টি করেছেন। তার গাড়িটি ছোট হলেও প্রবিন্ধীদের জীবনে গতি এনে দেওয়ার স্বপ্ন বুনছে বলে জানা গেছে।

আর তাই অভিভূত হয়ে সেই মিস্ত্রি মিজানকে নিয়ে ‘গল্প নয় সত্যি’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান নির্মাণ করেছে বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি)। দর্শকদের উপস্থিতিতে এ অনুষ্ঠানে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক মিজানের ব্যতিক্রমধর্মী উদ্ভাবন ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য ২৫ লাখ টাকা অনুদানের ঘোষণা দিয়েছেন।

এই মিজান মিস্ত্রির বাড়ি যশোরের শার্শা উপজেলার নাভারনে। পেশায় তিনি মোটরসাইকেল মিস্ত্রি বা মেকানিক। তিনি তার উদ্ভাবনী চিন্তাধারা দিয়ে ছোট পায়ের প্রতিবন্ধীর জন্য একটি ছোট গাড়ি বানিয়েছেন।

সামান্য লেখাপড়া জানা মিজান প্রতিবন্ধীদের জন্য মোটরসাইকেলের ইঞ্জিন ব্যবহার করে চার চাকার ছোট একটি জিপগাড়ি উদ্ভাবন করেছেন। জ্বালানি সাশ্রয়ী ধোঁয়াবিহীন গাড়িটি ঘণ্টায় ৬০-৭০ কিলোমিটার বেগে ছুটতে পারে। এক লিটার পেট্রলে পাড়ি দিতে পারে ৪৫ কিলোমিটার দূরত্ব।

মিজান তার বানানো প্রথম গাড়িটি ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ঝিকরগাছার ইউসুফের কাছে এক লাখ ২০ হাজার টাকায় গাড়িটি বিক্রি করে ইউসুফের জীবনের গতিও বাড়িয়ে দিয়েছেন।

মিজানের আবিষ্কার শুধু এই জিপ গাড়িতেই সীমাবদ্ধ নেই। তিনি ছোট জিপগাড়ি ছাড়াও জ্বালানিবিহীন বিদ্যুৎ ও সেচযন্ত্র, ডিজিটাল কাইচি, স্বয়ংক্রিয় অগ্নিনির্বাপণ যন্ত্র উদ্ভাবন করে সাড়া ফেলেছেন। এসব উদ্ভাবনীর স্বীকৃতি হিসেবে জাতীয় পর্যায়ে তিনি বেশ কিছু পুরস্কারও পেয়েছেন।

সত্যিই এমন বিরল প্রতিভা হয়তো বাংলার ঘরে ঘরে আরও অনেকেই আছেন, যাদের কথা হয়তো তাদের নিজস্ব গণ্ডির বাইরে কেউ জানেই না। এদের সবাইকে যদি খুঁজে বের করে কাজে লাগানো কোনো একটা প্রক্রিয়া থাকত, তাহলে হয়তো তারাই এমন অনেক কিছুই করে দেখাতে পারত যা বহির্বিশ্ব এখনো ভাবতেই পারেনি!

Latest Video Release

বাংলাদেশের টাইগারদের উৎসর্গ করে বাংলাদেশীজম প্রজেক্ট তৈরী করেছে একটি বিশেষ ভিডিও। নীচে ভিডিওটি দিয়ে দিলাম। দেখে ফেলুন।

আপনার মন্তব্য