নাজিব রাজাকের মতো অন্যরাও এগিয়ে এলে লেজগুটাতে বাধ্য হতো মিয়ানমার

28
SHARE

গত ৯ অক্টোবরের পর থেকে মিয়ানমারের আরাকান রাজ্যের রোহিঙ্গা মুসলমানদের উপর হত্যাযজ্ঞ চালাচ্ছে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী। তাদের সাথে যুক্ত হয়েছে রাখাইনরাও। রোহিঙ্গাদের ঘর-বাড়ি পুড়িয়ে দিচ্ছে, সম্পদ ধ্বংস করছে, নারীদের ধর্ষণ করছে। সীমাহীন নির্যাতন করছে বেঁচে যাওয়াদের ওপর।

উপায়ান্তর না দেখে দিকবিদিক ছুটছে অবশিষ্টরা। ইতোমধ্যে ১০ হাজার রোহিঙ্গা মুসলমান বাংলাদেশে প্রবেশে করেছে বলে জানা গেছে। এখনও বন্ধ হচ্ছে না হত্যাযজ্ঞ, কফি আনানের নেতৃত্বে তদন্ত কমিশনের ধ্বংসস্তূপ পরিদর্শনের পরপর আবারও রোহিঙ্গাদের ওপর হামলা চালানোর খবর পাওয়া গেছে।

এত নির্যাতন নিপীড়ন চলার পরও বিশ্ববিবেক আশানুরূপ প্রতিবাদের ভাষা ব্যবহারে ব্যর্থ হযেছে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে। জাতিসংঘ, মানবাধিকার সংস্থাসহ কিছু প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে নামকাওয়াস্তে প্রতিবাদ জানানো হলেও থামেনি মিয়ানমার।

মুসলিম দেশগুলোও কার্যত নিশ্চুপ রয়েছে। কিছুটা ব্যতিক্রম শুধু তুরস্কের প্রেসিডেন্ট, তবে তিনিও আন্তর্জাতিক দৃষ্টিকে মিয়ানমারের সরকারের মানবাধিকার লংঘনের বিষয়ে সজাগ করতে যথাযথ উদ্যোগ নেননি।

তবে ইতোমধ্যে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী নাজিব রাযাক সবার চেয়ে এগিয়ে গেছেন, মিয়ানমারের বিরুদ্ধে কঠোরভাবে প্রতিবাদ জানিয়ে। বিবৃতি তো দিয়েছেনই, র‌্যালি করে, জনসভা করেও তিনি মিয়ানমারে রোহিঙ্গা মুসলিমদের ওপর যে গণহত্যা চলছে তার তীব্র নিন্দা করেছেন।

নাজিব রাযাক আন্তর্জাতিক সংগঠনগুলোর প্রতি আহ্বান জানান, যেন তারা রোহিঙ্গা মুসলিমদের ওপর পরিকল্পিতভাবে যে হত্যা, ধর্ষণ ও নির্যাতনের যেসব খবর আসছে – সেসব তদন্ত করা হয়।

মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী নাজিব রাযাক অং সান সুচির অবস্থানেরও বিরোধিতা করেছেন। সুচি নীরব থাকার মাধ্যমে তিনি দৃশ্যতই সামরিক অভিযান মেনে নিচ্ছেন বলেও অভিযোগ করেছেন।

নাজিব রাযাক যে ভাষায় এবং পদ্ধতিতে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করছেন, একইভাবে আরব রাষ্ট্রগুলো এগিয়ে এলে পশ্চিমারাও মিয়ানমারের বিরুদ্ধে চাপ সৃষ্টিতে বাধ্য হতো। কারণ তারা মুসলিমদের প্রতিপক্ষ বা শত্রু মনে করলেও সম্মিলিত মুসলিমশক্তির মতামতকে উপেক্ষা করার সাহস দেখাতে পারত না।

অথচ, বিশ্বমুসলিমদের এটাই সবচেয়ে দুর্ভাগ্য যে, তাদের চরম দুর্দিনেও তারা এক পতাকা তলে আসতে পারেন না। পরস্পরের হাতে হাত রেখে শত্রুর বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে পারেন না।

যদি তারা সত্যিই এক হতে পারতেন, নাজিব রাযাকের মতো হুঙ্কার ছেড়ে রাস্তায় নামতেন তাহলে লেজগুটাতে বাধ্য হতো মিয়ানমারের ফ্যাসিবাদী সরকার। রক্ষা পেতে পারত রাখাইনের মজলুম রোহিঙ্গারা।

Latest Video Release

বাংলাদেশের টাইগারদের উৎসর্গ করে বাংলাদেশীজম প্রজেক্ট তৈরী করেছে একটি বিশেষ ভিডিও। নীচে ভিডিওটি দিয়ে দিলাম। দেখে ফেলুন

আপনার মন্তব্য