নাফ নদী ফিরিয়ে দিয়েছে রোহিঙ্গা আইলানের নিথর দেহ

36
SHARE

ডেস্ক : মনে আছে, আইলান কুর্দির কথা? মধ্যপ্রাচ্যের বিরাজমান যুদ্ধে শরণার্থী হয়ে সাগর পাড়ে পড়ে থাকা ছোট্ট শিশু আইলানের নিথর দেহের ছবি বিশ্ব মানবতাকে ধিক্কার দিয়েছিল। বিশ্বগণমাধ্যমে ছবিটি প্রকাশের পর শোক, নিন্দায় সরব হয়ে উঠেছিল গোটা বিশ্ব।

আইলানদের বাড়ি ছিল সিরিয়ার কুর্দি অধ্যুষিত কোবানি শহরে। আইএস সিরীয় শহরটি দখল করে নেয়ার পর আইএস-এর কবল থেকে বাঁচতে ইউরোপের কোনো দেশে যাওয়ার জন্য তিন বছরের শিশু সন্তান আয়লান, পাঁচ বছরের গালিফ ও স্ত্রী রেহানকে নিয়ে নৌকায় করে ইউরোপে পাড়ি জমিয়েছিলেন তার পিতা আব্দুল্লাহ।

তুরস্কের সমুদ্র তীরের কাছাকাছি গিয়ে ডুবে যায় তাদের বহনকারী নৌকাটি। আব্দুল্লাহ নিজে বাঁচলেও প্রাণ হারায় তার দুই শিশুপুত্র ও স্ত্রী। তবে ডুবে যাওয়া আইলান ও গালিপের দেহ ফেরত দিয়েছিল সাগর।

তুরস্কের বোদরাম সৈকতে ভেসে আসে আইলানের দেহ। লাল টি-শার্টি, নীল হাফ প্যান্ট আর জুতাজোড়া তখনও তার পায়ে ছিল। উল্টো হয়ে থাকা দেহটির ছবি প্রকাশিত হয় তুরস্কের গণমাধ্যমে। তারপর তোলপাড় শুরু হয় বিশ্বজুড়ে।

এবার এমনই আরেক আইলানকে ফিরিয়ে দিয়েছে নাফ নদী। পলায়নপর রোহিঙ্গাদের নৌকার ওপর বার্মিজ সেনাদের গুলিতে নৌকা ডুবে যায় I জন্ম হয় আরেক মৃত আইলানের।

বাংলাদেশের টেকনাফে ভেসে এসেছে এক রোহিঙ্গা শিশুর নিথর দেহ। তবে পার্থক্য হলো আইলান কুর্দির পরনে সুন্দর পোশাক ছিল, পায়ে ছিল জুতোজোড়াও। কিন্তু এ হতভাগ্য রোহিঙ্গা শিশুর সেটাও ছিল না।

এক আইলান বিশ্ব বিবেককে এতোটাই নাড়া দিয়েছিল যে ইউরোপ তার সীমান্ত খুলে দিতে বাধ্য হয়েছিল। কিন্তু এবারের এই রোহিঙ্গা শিশুর নিথর দেহ কি পারবে রোহিঙ্গাদের জন্য বিশ্ব মানবতাবোধের গোড়াটায় অন্তত একটা চরম ঝাঁকুনি দিতে?

কিন্তু একটি সমস্যা তো আছেই। সবাই মানুষ। সবার রক্ত লাল। কিন্তু তথাকথিত মানবতাবাদীদের কাছে সবাই সমান নয়। রোহিঙ্গারা সাগরে ভাসলেও সেই ‘মানবতাবাদীদের’ অন্তর এতদিন স্পর্শ করেনি।

তারপরও ভাইরাল হয়ে যাওয়া রোহিঙ্গা শিশুটির ছবিটি ভেসে বেড়াচ্ছে অন্তর্জালজুড়ে।

এক ফেসবুক বন্ধু লিখেছেন, একজন সিরিয়ান শিশু আইলান, আরেকজন রোহিঙ্গা শিশু নাম পরিচয়হীন।!! আচ্ছা আপনার কি একই বয়সী সন্তান আছে? ভাবুনতো এইভাবে মৃত পড়ে আছে আপনার সন্তান, কেমন লাগছে আপনার? অনুভূতি কি প্রবল হয়ে উঠছে??? আমি জানি, বুঝতে পারছি, টের পাচ্ছি, আপনার বুকের ভেতরের আগুন, চোখে জল, রক্ত টগবগ করে উঠছে… আর কত নির্বাক থাকবেন??? শুধু মনে রাখলেই হবে, এসব দেবশিশুদের কোন ধর্ম নেই, জাত নেই, দেশ নেই… প্রতিবাদ করুন, তীব্র প্রতিবাদ, অমানবিকতা আর বর্বরতার বিরুদ্ধে…

আমরাও একই ভাষায় বলতে চাই, প্রতিবাদে জেগে উঠুক মানবতা, তীব্র প্রতিবাদে জেগে উঠুক বিশ্ব।

মায়ানমারের সাম্প্রতিক বিষয়গুলো নিয়ে আমরা আমাদের ভিডিও ব্লগে কথা বলেছি। দেখতে হলে চলে যান এই লিঙ্কে – https://www.youtube.com/watch?v=K22uRYdGDas

আপনার মন্তব্য