পাহাড় খেকুদের দমন করুন

39
SHARE

ডেস্ক : দেশের বিভিন্ন স্থানে পাহাড় কাটার যেন হিড়িক পড়েছে। কক্সবাজারের বিভিন্ন এলাকায় পাহাড় কাটার খবর পাওয়া যায়। বিশেষ করে চকরিয়া, রামুতে পাহাড় কেটে নেওয়ার খবর প্রায়ই পত্রপত্রিকায় প্রকাশ পায়।

চট্টগ্রাম শহর এবং শহরের আশেপাশে থাকা পাহাড়গুলো নানা উছিলায় কেটে নিচ্ছে পাহাড়খেকুরা। এবার খবর পাওয়া গেছে, পাহাড়খেকুদের নজর পড়েছে হাটহাজারী উপজেলার বিভিন্ন এলাকার পাহাড়গুলোর দিকে।

সেখানে নির্বিচারে পাহাড় কাটার ধুম পড়েছে। নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কর্তাদের বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে প্রকাশ্য চলছে পাহাড় কাটার উৎসব।

বিগত কয়েকমাস যাবত এলাকার বেশ কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তির নেতৃত্বে পাহাড় কাটছে একটি সিন্ডিকেট।

পত্রিকায় প্রকাশিত এক খবরে বলা হয়েছে, হাটাজারীর বিভিন্ন এলাকার ছোট বড় পাহাড় ও টিলা কেটে মাটি নিয়ে যাচ্ছে। প্রতিদিন ভোর ৫টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত অন্তত ১৫-২০টি ট্রলি গাড়িতে করে কর্তনকৃত পাহাড়ের মাটি বিক্রি করছে সিন্ডিকেট চক্রটি। চক্রটি এ পর্যন্ত ৪-৫টি ৬০-৭০ ফুট উঁচু পাহাড় কেটে সাবার করেছে।

রাঙ্গুনিয়া, রাওজানের ছোট ছোট অনেক পাহাড় অনেক আগেই হারিয়ে গেছে। হারিয়ে গেছে কুমিল্লার অধিকাংশ পাহাড়ও। এভাবেই যদি চলতে থাকে অদূর ভবিষ্যতে এদেশে পাহাড় বলে কিছু থাকবে কিনা কে জানে?

পার্বত্য চট্টগ্রামের সুউচ্চ কিছু পাহাড় ছাড়া হয়তো আর কোনো পাহাড়ই অবশিষ্ট থাকবে না।

অথচ, পাহাড় হচ্ছে পরিবেশের অপরিহার্য উপাদান। পাহাড় ছাড়া দেশের পরিবেশ মানুষের বাসোপযোগী থাকবে না। কমে যাবে বৃষ্টির পরিমাণ, অতিরিক্ত খরায় দেশজুড়ে সৃষ্টি হবে কৃত্রিম মরুভূমির।

তাই পাহাড় কাটা বন্ধ না হলে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হয়ে বিপর্যয় সৃষ্টি হবে- এতে কোনো সন্দেহ নেই। তাছাড়া প্রতিবছর বর্ষা এলেই চট্টগ্রামসহ অন্যান্য পাহাড়ি এলাকায় পাহাড় ধ্বসে বিপুল সংখ্যক মানুষের মৃত্যু হয়। সেটাও পাহাড় কাটার পরিণাম।

বিষয়টি নিয়ে পরিবেশবাদী এবং সরকারের সংশ্লিষ্টদের এখনই ভাবতে হবে। নিতে হবে কার্যকর পদক্ষেপ। দমন করতে হবে পাহাড়খেকুদের। বন্ধ করতে হবে পাহাড় কাটা।

আপনার মন্তব্য