নিজের দেশকে কখনও ছোট করতে নেই…

49
SHARE

কথায় কথায় আজকাল নিজের দেশকে ছোট করা একটা ফ্যাশনে দাড়িয়েছে। মিটিং-এ, মিছিলে, ব্যানারে, রাস্তায়, আড্ডায়, টিভিতে, নাটকে, সিনেমায় – হেন কোন জায়গা নেই, যেখানে আমরা নিজের দেশকে ছোট করি না। দেশে-বিদেশে তো আছেই!। বিদেশে একটা জিনিষ অনেকেই করেন – অন্যের দেশকে একটু বড় দেখাতে গিয়ে নিজের দেশকে ছোট করা। এটা প্রায়শয় হয়। কখনও খেয়ালের বশে আবার কখনও ঠাট্টার ছলে। অন্যের দোষ দিয়ে লাভ নেই, আমরা নিজেরাই করি।

রাজনীতিতে নিজের দেশকে ছোট করার একটা অন্যরকম প্রবনতা লক্ষ্য করা যায়। যেকোন বিরোধী দলই সমালোচনা করতে গিয়ে অনেক সময় নিজের দেশটাকেই বিক্রি করে দেন সমালোচনার ফেনায়। ভাল ব্যাপারগুলোকেও খারাপভাবে রিপ্রেজেন্ট করেন। রাজনীতির কথা বাদই দিলাম। আমরা সাধারন মানুষরাও কম যাই না। অনেক সময় কথাই শুরু করি “দেশটা গেল রসাতলে” অথবা “এই দেশের কিছু হবে না”। আর একটা এখন একটা জেনারেশন আছে আমাদের দেশে যারা বড় হয়েছে এই ডায়ালগ শুনে শুনেই। তাই তাদের কাছে দেশের সংজ্ঞা একটু অন্যরকম। দেশ অনেক সময় তাদের কাছে বোঝার মতই মনে হয়। তবে তাদের দোষ দিয়ে লাভ নেই – কারন তারা এগুলো শুনেই বড় হয়েছে।

কথায় কথায় দেশকে ছোট করার ব্যাপারটা আলাপে সীমাবদ্ধ থাকলেও এগুলো আসলে আমাদের ভেতর একটা হতাশার সৃষ্টি করে। ভবিষ্যত অন্ধকার না হলেও চোখের সামনে একটা কালো চশমা এনে দেয় যার কারনে মনে হয়, আহা, ভবিষ্যত বড়ই অন্ধকার। নেতিবাচক হয়ে উঠে আমাদের মনোভাব।

দেশ নিয়ে অভিযোগ থাকতেই পারে বিশেষ করে আমাদের মত কম উন্নত দেশগুলোর নাগরিকদের মাঝে থাকতেই পারে। তবে যদি আমরা দেশকে আরো একটু ইতিবাচক ভাবে সামনে আনতাম তাহলে মনে হয় ভাল হত। নেতিবাচক দিক তো অনেক আছে। কিন্তু ইতিবাচক দিকও আছে? সবসময় সমালোচনা করতে হবে আমাদের? সরকারের সমালোচনা, বিরোধী দলের সমালোচনা, পুলিশের সমালোচনা, বাস ওয়ালার সমালোচনা, আবর্জনা পরিস্কারের সমালোচনা, আমলার সমালোচনা, টিভির সমালোচনা, খেলার সমালোচনা – সমালোচনার অভাব নেই যেন!

এর সবচেয়ে বড় উদাহরন, ক্রিকেট। বাংলাদেশ যদি ক্রিকেট খেলায় যেদিন ভাল করে সেদিন প্রশংসার বানে ভেসে যায় পুরো দেশ। আর যেদিন একটু খারাপ খেলে, ওরে বাবারে, খেলোয়াড়দের মা-বাপ তুলে গালি। আমরা বড়ই এক্সট্রিম জাতি। মাথা গরম পার্টি বলা যেতে পারে। আমাদের তরুন প্রজন্মেরও মাথা অনেক বেশী গরম। কথা বার্তা ছাড়াই আন্দোলন, রোড ব্লক, মারামারি, হানাহানি। বড়ই এক্সট্রিম। তবে সবকিছু অন্যভাবেও নিয়ন্ত্রন করা যায়।

আমাদের নেতিবাচক কথা বার্তাগুলো নতুন প্রজন্মকে অনেকটা হতাশই করে দেয়। তাদের মধ্যে একটা বদ্ধমুল ধারনা হয়ে যায় যে তারা হয়তো এই দেশে কিছু করতে পারবে না। একটা ভীতি সবসময় কাজ করে। কেউ নতুন ব্যবসা করতে গেলে তাকে উপদেশ দেই “ভাই, এই দেশে ব্যবসা কইরেন না, মরবেন, দেশের অবস্থা ভাল না”। কেউ দেশে পড়ালেখা করতে চাইলে বলি “ভাই, দেশ ছাড়, এখানে পড়ালেখা হবে না, আইবুড়ো হয়ে মরবা”।

দেশটাকে নিয়ে একটু অন্যভাবে কি ভাবা যায় না? আমরা কি পারি না? নিজেদের দেশই তো তাই না? আমাদের বাংলাদেশীজমটা সবসময় কেন জানি একটু চাপা থাকে। বের হয়ে আসে না। তবে যদি বের হয়ে আসত, তাহলে এই দেশের চিত্র মনে অতি অল্প সময়ে আমূল পাল্টে যেত। বের করে আনুন আপনার ভেতরের বাংলাদেশীজম। দেখবেন, এই দেশ কতটা সম্ভাবনাময়।

আপনার মন্তব্য