in

প্রধানমন্ত্রী নির্ভর বাংলাদেশ

খেয়াল করেছেন একটি ব্যাপার? বাংলাদেশে ইদানীং কোন দাবি-দাওয়া, চাওয়া-পাওয়া, আন্দোলন – হোক সেটা শিক্ষার্থীর অথবা সাধারণ মানুষের, হোক সেটা যে কারো আর্জি, সবকিছুই করা হয় শুধু মাত্র প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষন করার জন্য। বাংলাদেশে আরও যে অনেক গভর্নিং বডি আছে, আরো অনেক অথরিটি আছে সেটা যেন কারো চোখেই পড়ে না! একটা সামান্য কালভার্ট করে দেয়া হতে শুরু করে বড় কোন ধরনের চাওয়া পাওয়া – সবকিছুর ক্ষেত্রেই বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষন করতে হয়।

হ্যাঁ এটা সত্য, বাংলাদেশের সবচেয়ে ক্ষমতাধর মানুষটি হলো বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী। কিন্তু উনার তো একটা প্রশাসন আছে, মন্ত্রী মিনিস্টার আছে, সংসদ সদস্য আছে, আমলা আছে, মেয়র আছে – সবই আছে। কিন্তু তাদের উপস্থিতি বা তাদের এক্সিস্টেন্স খুব একটা চোখে পড়ে না সাধারণ মানুষের কাছে। মানুষের ভরসা একমাত্র প্রধানমন্ত্রীর উপরই আছে? মানুষ কি শুধু প্রধানমন্ত্রীর কথাতেই ভরসা রাখতে পারেন? আর বাকিদের উপর কি মানুষের তেমন একটা আস্থা নেই?

সাম্প্রতিক দুর্নীতির বিরুদ্ধে যুদ্ধটাও কিন্তু শুরু করেছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আর কেউ নয়। অথচ একাজ গুলো ছিল প্রশাসনের দায়িত্ব। বছরের পর বছর এসব ক্যাসিনো এবং ক্যাসিনো ব্যবসার নামে বিদেশে টাকা পাচার, ক্ষমতার অপব্যবহার – এসবের বিরুদ্ধে অভিযান করাটা কিন্তু রাষ্ট্রের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারীর বাহিনীর হাতে বর্তায়। তবে কেন তারা এতদিন কোন ধরনের পদক্ষেপ নেননি। কেন স্বয়ং প্রধানমন্ত্রীকেই হস্তক্ষেপ করতে হল? স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীও তো পারতেন করতে তাই নয় কি?

গোপালগঞ্জে বঙ্গবন্ধু বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ব বিদ্যালয়ে চলমান আন্দোলনের দিকে খেয়াল করেছেন? এখানে ছাত্রছাত্রীরা যে দাবি দাওয়া তুলে ধরেছে তা কিন্তু প্রশাসনের কাছে না। তারা চেষ্টা করছে প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষন করার জন্য। ভিসির বিরুদ্ধে তাদের যেসব অভিযোগ এবং তারা যে ধরনের হামলার শিকার হচ্ছে গত কদিন ধরে – সবকিছুকে ছাপিয়ে সবকিছুই তারা দেখাতে চাইছে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে।

এগুলো তো গেল সাম্প্রতিক ঘটনা। দেশের অবকাঠামোগত উন্নয়নের জন্য সার্বিকভাবে যেসব রাস্থাঘাট, ব্রিজ- কালভার্ট ইত্যাদিন্র নির্মান কাজ হচ্ছে বা হওয়ার অপেক্ষায় আছে এমনকি এগুলো সঠিক ভাবে হবার জন্য অথবা সঠিকভাবে কেন হচ্ছে না এই প্রশ্নটাও দেশের প্রধানমন্ত্রীর কাছে করা হচ্ছে। চট্টগ্রামের পিসি রোড, এক্সেস রোডের জন্য মানুষের যে বছরের পর বছরের ভোগান্তি আর ঠিকাদারদের দুর্নীতি – এগুলো সবই মানুষ তুলে ধরার চেষ্টা করছে প্রধানমন্ত্রীর কাছে। শহরের মেরের কথায় কেউ কর্নপাতই করছেন না কারণ মানুষ ক্লান্ত হয়ে গেছে এক গল্প বার বার শুনতে শুনতে।

এর মধ্যে যত ধরনের খুনের ঘটনা ঘটেছে এবং যেগুলো অনলাইন বা স্যোশাল নেটওয়ার্কে ভাইরাল হয়েছে, সেই আসামীদের ধরার জন্য প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকেই নির্দেশ আসার পর প্রশাসন নড়েচড়ে বসে আর তরিত গতিতে আসামী ধরার চেষ্টা শুরু করে এবং সফলও হয়। কিন্তু এসব ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রীর কেন আলাদা করে নির্দেশ দিতে হবে? এগুলো কি ডিফল্ট সিস্টেম না ? এধরনের যেকোন কিছুর ক্ষেত্রে প্রশাসন তরিত গতিতে ব্যবস্থা নিবে – প্রধানমন্ত্রী আলাদা করে নির্দেশ দেন আর না দেন।

কেন এই প্রধানমন্ত্রী নির্ভর বাংলাদেশ? কেন দেশের মানুষ প্রধানমন্ত্রী ছাড়া আর কারো উপর তেমন কোন ভরসা করতে পারছে না। কেন কোন আস্থা নেই অন্যান্য মন্ত্রী-এমপি বা প্রশাসনের হর্তাকর্তাদের উপর? পুরো দেশে কি শুধু প্রধানমন্ত্রী একমাত্র সৎ ব্যাকটি এবং শুধু কি উনার দেশের জন্য টান আছে? উনার পথ অনুসরণ করে কেন অন্যান্য হর্তাকর্তারা কিছু করতে পারছেন না? এটা কি তাদের ব্যর্থতা নাকি মানুষের আস্থা পাওয়ার তাদের কোন ইচ্ছা নাই নাকি অনেকদিন ক্ষমতায় থাকতে থাকতে তারা অনেকটা অলস হয়ে গেছেন?

জাতীয় বা আন্তর্জাতিক যেকোন কিছুতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী হাত না দলে যেন কিছুই নড়ে না। কিছুই হয় না। তার মানে কি মন্ত্রীদের আসলে তেমন কোন ক্ষমতা নেই? নাকি মন্ত্রীদের ক্ষমতা আছে কিন্তু সেই ক্ষমতাকে তাদের অধীনস্তরা, সরকারী আমলা বা প্রশাসন তেমন একটা পাত্তা দেয় না? অধীনস্তরা কি শুধু “জী স্যার”, জী হুজুর” শুনলেই খুশী হয়ে যান?

সবাই যে এমন তা না। অনেকেই আছেন অনেক কষ্ট করছেন বা অনেক কিছু করার চেষ্টা করছেন।মাঝে মাঝে সামনে উঠে আসে তাদের গল্প। কিন্তু বাস্তবতা হলো – এই মুহুর্তে দেশের ছোট থেকে বড় যেকোন ধরনের ইস্যুই নর্ভর করে প্রধানমন্ত্রীর উপর। হয়তো উনি হস্তক্ষেপ না করলে কোন কাজই যে ঠিক মত হয় না এটা উনিও জানেন। এবং এটা আসলে উনার ক্রেডিট, উনার স্বকীয়তা এবং যোগ্যতা। কিন্তু বাকীসব মন্ত্রী-এমপি বা প্রস্বানের হর্তাকর্তা – উনাদের কি যোগ্যতার অভাব নাকি ইচ্ছার? তারা কেন দেশের প্রধানমন্ত্রীর মত হতে পারেন না? কি তাদের আটকে রেখেছে? কেন আটকে রেখেছে? এসব প্রশ্নের উত্তর কি আমরা কোনদিন পাব?

What do you think?

কেন মিররলেস ডিজিটাল ক্যামেরা ব্যবহার করবেন?

ভাল মানুষ হবার কিছু উপায় !