আধুনিকতার নামে পর-সংস্কৃতি কেন গ্রহন করবো?

Question

সংস্কৃতির ক্ষয় এবং আধুনিকতা দুটো একই বিষয় নয়। উন্নতির জন্য সংস্কৃতি এবং আধুনিকতা দুটোরই প্রয়োজন।

বরং নিজ সংস্কৃতির ধারাকে বজায় রেখেই আধুনিক যারা হতে পারে দুনিয়া তাদেরই সম্মান করে। এটা কোন ধর্মীয়, কোন রাষ্ট্রীয়, কোন আলাদা জাতি কিংবা গোষ্ঠী এই ধারার সব ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য হতে পারে। এখন কেউ যদি বলে যে উন্নতির জন্য আধুনিক হও আর আধুনিকায়নের জন্য ধর্ম-কর্ম ছেড়ে দেউলিয়া হও, পান্তা-ইলিশ ছেড়ে শ্যাম্পেইন নাও কিংবা শার্ট-প্যান্ট ছেড়ে খালি হাফ প্যান্ট পড়। তাহলে অবস্থাটা হবে খালি দুধের মাঝে লেবুর রস দেওয়ার মতই, পর্যবেক্ষন : পর্যবেক্ষনেই পুরো দুধটাই চড়া-বড়া। তদ্রুপ সংস্কৃতিটা হলো প্রত্যেক জাতি কিংবা গোষ্ঠীর-ই ভিত্তি। সংস্কৃতি নামক ভিত্তিকে বাদ দিয়ে যারা নিজের মাঝে আধুনিকায়ন ঘটানোর চিন্তা-ভাবনা করে তাদের যুক্তি আর বুদ্ধিটা হল দুধের মাঝে লেবুর রস দেওয়ার মতই চড়া-বড়া করণ পদ্ধতি। তাই এদিক থেকে সংস্কৃতির ভূমিকা আধুনিকায়ন এবং শিক্ষার চেয়েও শক্তিশালী।

কোন কোন পরিসংখ্যানে দেখা যায় ইউরোপের যেকোন দশটি দেশের চেয়েও আমার দেশের শিক্ষিতের পরিমাণ বেশী। কিন্তু, ইউরোপ – আমেরিকার চাইতে আমরা প্রযুক্তিতে কতইনা পিছিয়ে; কেউ বলে ১০০,কেউ বলে ২০০, কেউবা ৩০০, কেউবা ৪০০, কেউবা বলে ৫০০ বছর আমরা পিছিয়ে আছি! জিরো থেকে হিরো হওয়ার উদাহরণের জন্য চীনের দিকে তাকালেই হয়, চীন বেকার যুবকদের কর্মসংস্থানের জন্য ১২ টি বছর বিশ্ববিদ্যালয়গুলো বন্ধ রেখেছিল। শিক্ষার্থীদের দেয়া হয়েছিল কারিগরি শিক্ষা, অনেকেই বিষয়টাকে রাজনীতিতে নিতে চায়। কিন্তু, বাস্তবতা হল এই সময়টাতে চীন প্রযুক্তিতে এত বেশী সমৃদ্ধি অর্জন করেছিল আজ পর্যন্ত চীনকে আর পিছনের দিকে তাকাতে পর্যন্ত হয় নাই। চীন আজ স্ব-নির্ভরশীল শুধু নয়, নিরাপদ সমস্ত বহি:শত্রু থেকেও। তার জন্য চীন তার সামরিক মহা প্রাচীর এর পাশাপাশি দ্য গ্রেট ফায়ার ওয়াল অফ চায়না নামে এক ইন্টারনেট সিকিউরিটি সিস্টেম তৈরী করে রেখেছে, যার কারণে চীনে বিরোধি কোন শক্তি তাদের এসপিওনাজ তৎপরতা চালাতে পারে না। এজন্যই কোন প্রকার ম্যালওয়্যার নাকি তাদের সিস্টেমে প্রবেশ করানো সম্ভব নয় এবং সম্ভব নয় কোন প্রকার উগ্রবাদী  এজেন্ডাও বাস্তবায়ন করা। দুনিয়ার শক্তিগুলো যখন ব্যস্ত মারি আর ভোগ করি নীতিতে, ঠিকই চীন তখন ব্যস্ত নিজেকে শক্তিশালী থেকে আরো শক্তিশালী করতে।

পৃথিবীর প্রায় উন্নত দেশসমূহ আধুনিকায়নের দ্বারা উন্নতির এত উচ্চশিখরে আসীন হওয়ার পরও তাদের সংস্কৃতি তারা ছাড়ে নাই। সুতরাং, উন্নতির জন্য আধুনিকায়নের পাশাপাশি স্বীয় সংস্কৃতির ভিত্তি অপরিহার্যই। উন্নতির জন্য ছোট আর বড় কথা নয়, উদাহরণ হিসেবে সিঙ্গাপুরই যথেষ্ট।

কয়েকমাস পূর্বে পত্রিকায় পড়েছিলাম যুক্তরাজ্যের এক ছেলে তার মায়ের কাছে পিতার পরিচয় জানতে চাইলে মা এক পুরুষকে দেখিয়ে বললো এই তোমার পিতা। ছেলেটি তাতে বিশ্বাস করলো না। পুরুষটির DNA পরীক্ষা করালে দেখা যায় পুরুষটি সত্যিই তার পিতা নয়, ছেলেটি তার মাকে আবার ধরলো সত্যিকার পিতার পরিচয় দেওয়া জন্য মা আরেকটি পুরুষকে দেখিয়ে বললো এই তোমার সত্যিকার পিতা। কিন্তু, এইবারো DNA মিলে নাই। এভাবে কয়েকজনের পর গিয়েই DNA মিলে। সত্যিকারে ঐ মা নিজেই জানতো না তার সন্তানের পিতা কে!!! শেষপর্যন্ত ছেলেটি বলতে বাধ্য হল, যেই মা তার সন্তানকে পিতার পরিচয় দিতে ৬ জন পুরুষের DNA পরীক্ষা করানো লাগে ঐ মায়েরও প্রয়োজন নেই, ঐ পিতারও প্রয়োজন নেই। এটা হল পশ্চিমাদের সংস্কৃতি। কিন্তু, আমাদের সংস্কৃতি কতইনা পবিত্র, শুনেছিলাম বি,সি,এসে একজন পরীক্ষার্থীকে পিতার নাম জিজ্ঞাসের পর প্রশ্ন করা হয়েছিল উনি যে তোমার পিতা কীভাবে নিশ্চিত হলা, তখন তিনি উত্তর দিয়েছিলেন আমার মা বলছেন উনি আমার পিতা তাই নিশ্চিত হলাম উনিই আমার পিতা, শুনেছি উনি ক্যাডার হিসেবে উত্তীর্ন হয়েছিলেন। এটা হলো আমাদের সংস্কৃতি। এই পবিত্র সংস্কৃতিকে ভিত্তি হিসেবে নিয়ে প্রযুক্তির আধুনিকায়ন ঘটালে উন্নতিও হবে পৃথিবী মায়ের।

#আপন_সংস্কৃতির_প্রতি_অপরিসীম_ভালোবাসা 💜💜

in progress 0
সামাজিক অবক্ষয় Ittehad 3 weeks 1 Answer 72 views Silver 0

Answer ( 1 )

  1. আধুনিকতার নামে আমরা নিজের দেশের সংস্কৃতিকে দিন দিন ভুলে যাচিছ। আমরা এখন
    পর-সংস্কৃতিকে আধুনিকতার নামে গ্রহণ করছি যেটা করা একেবারে উচিত নয়।

Leave an answer

Captcha Click on image to update the captcha .

About IttehadSilver


Follow Me